নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | 14 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন—দুই ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট বা ০ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকটির অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্ট।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর অন্য প্রধান সূচকগুলোতেও ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ এক সপ্তাহে ৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০১ পয়েন্টে উঠেছে। আগের সপ্তাহ শেষে এ সূচক ছিল ২ হাজার ৯৫ পয়েন্ট।
অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে এ সূচকের অবস্থান ছিল ১ হাজার ১০৫ পয়েন্ট।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের শুরুতে জ্বালানি সংকট, কোম্পানিগুলোর আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে বাজারে কিছুটা দুর্বল প্রবণতা ছিল। শিল্প উৎপাদন ও করপোরেট মুনাফায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকায় ওই সময়ে বিক্রয়চাপও তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে সপ্তাহের শেষের দিকে বিক্রয়চাপ কমে এলে সূচক আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৭টির দর বেড়েছে, ২১৩টির দর কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ২৫টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি।
সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও লাফার্জহোলসিমের শেয়ার।
বস্ত্র খাতে সর্বোচ্চ লেনদেন
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল বস্ত্র খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ এসেছে এ খাত থেকে।
সাধারণ বীমা খাত ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। ব্যাংক খাতের অংশ ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ, যার ফলে খাতটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
এ ছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতের অংশ ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অংশ ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।
সিমেন্ট খাতে সর্বোচ্চ ইতিবাচক রিটার্ন
রিটার্নের হিসাবে বিদায়ী সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সিমেন্ট খাতে। এ খাতে রিটার্ন ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
এরপর সাধারণ বীমা খাতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্যাংক খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন পাওয়া গেছে। কাগজ খাতেও ০ দশমিক ৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।
জীবন বীমায় সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন
অন্যদিকে কয়েকটি খাতে সপ্তাহজুড়ে নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। এর মধ্যে জীবন বীমা খাতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
এ ছাড়া বিবিধ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ, সিরামিক খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ভ্রমণ খাতে ০ দশমিক ৭ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন হয়েছে।
সিএসইতে বিপরীত চিত্র
দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অবশ্য ছিল ভিন্ন চিত্র। বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই প্রায় ১ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৭৩৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আগের সপ্তাহ শেষে এ সূচক ছিল ১৪ হাজার ৮৬৭ পয়েন্ট।
একই সময়ে সিএসসিএক্স সূচক সপ্তাহের ব্যবধানে ০ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ৯ হাজার ২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে এ সূচকের অবস্থান ছিল ৯ হাজার ৭৩ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে প্রায় ৯৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আলোচ্য সময়ে লেনদেন হওয়া ৩০২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০১টির দর বেড়েছে, ১৭৬টির দর কমেছে এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সব মিলিয়ে, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে সূচকের সামান্য উত্থান হলেও বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এখনো রয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে ভিন্ন ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংক, সাধারণ বীমা ও সিমেন্ট খাতে ইতিবাচক রিটার্ন এলেও কয়েকটি খাতে দরপতন হয়েছে।
ফলে আগামী দিনে শেয়ারবাজারের গতিপথ নির্ধারণে কোম্পানিগুলোর আয়, জ্বালানি পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Posted ১০:৪২ পিএম | শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.